ঘরে বসে সহজে আয় করুন ফ্রিল্যান্সিং/ আউটসোর্সির এর মাধ্যমে
কেন ফ্রিল্যান্সিং/আউটসোর্সিং?

আমাদের
দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংথ্যার তুলনায় এখানে কাজ অপ্রতুল। আর যে পরিমান
কর্মের সুযোগ আছে সেখানে জায়গা করে নেয়া যে কতটা কষ্টসাধ্য তা আমাদের
আপনার/আমার চাইতে আর ভালো কে বলতে পারে। আর বহু কষ্টে একটা সুযোগ করে নিলেও
তা কি প্রকৃত অর্থেই কি আপনার মেধার মূল্যায়ন করতে পারে? পারে কি আপনার
চাহিদা মেটাতে? এই প্রশ্নগুলোর সহজ সমাধান হচ্ছে আউটসোর্সিং। যা আপনাকে
অপেক্ষাকৃত সহজে করে দিতে পারে কাজের সুযোগ, যেখানে আপনার শ্রমের মূল্য
আপনার মেধার সঙ্গে হবে সঙ্গতিপূর্ন। আর নিয়মতি কাজ করে গেলে এখানেই হতে
পারে আপনার সুনিশ্চিত ক্যারিয়ার যা গড়ে দেবে আপনার ভবিষ্যত ও।

অনলাইন
মার্কেটপ্লেস গুলোতে রয়েছে নানা ধরনের কাজ যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ওয়েব
ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ফরেক্স ট্রেডিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, এসইও,ডাটা
এন্ট্রি, লোগো ডিজাইন, অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং,
ব্লগিং, এসইম, এসএমএম, গ্রাফিক্স, ফটোশপ, আর্টিকেল রাইটিং ও ভার্চুয়াল
সাপোর্ট।
আপনি কি করবেন?
অনলাইন
মার্কেটপ্লেসে যে কাজগুলো যা আছে তার মধ্যে সবেচেয়ে বেশী আছে ওয়েব
ডিজাইন/ডেভেলপ আর এসইও এর কাজ বর্তমানে ফরেক্স ট্রেডিং খুব জনপ্রিয় হয়ে
উঠেছে এছাড়া অনেক কাজ আছে মার্কেটে। যার সম্মানীও আর অন্য কাজগুলো থেকে
বেশী। তাই এই সেক্টরগুলোতেই আপনি নিজের সফল ক্যারিয়ার গড়তে পারেন।
কিন্তু কিভাবে করবেন?

প্রথমে ঠিক করুন আপনি কোন কাজ শিখে ফ্রীল্যান্সিং করবেন।আগেই কাজ খোজার
চেষ্টা করবেন না। আগে কাজ শিখুন, তারপর শুরু করুন।বর্তমানে ওয়েব ডিজাইন
এবং ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর চাহিদা সব চাইতে বেশি এবং তার সাথে ফরেক্স
ট্রেডিং ও খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অনলাইন মার্কেটপ্লেস গুলোতে হাজারো
বায়াররা যেখানে প্রতিদিন লক্ষাধিক কাজ করিয়ে থাকেন এটা যেমন ঠিক সেখানে
তারা কাজের কোয়ালিটিতে নূন্যতম ছাড় দিতে চান না সেটাও একটি ধ্রুব সত্য। তাই
আপনাকে আগেই বায়ারকে সুনিশ্চিত করতে হবে আপনার কাজের কোয়ালিটি
সম্পর্কে। আর নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য আপনার দরকার প্রশিক্ষণ যার
মাধ্যমে আপনি হয়ে উঠবেন একজন সুদক্ষ ওয়েব ডেভেলপার বা এসই কনসালটেন্ট অথবা
পারফেক্ট ফরেক্স ট্রেডার।
ফ্রীল্যান্সিং শুরু করতে চাইলে যা মাথায় রাখা জরুরী

বাংলাদেশের
প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা যে কারো জন্যই একটি বিশাল অর্জন। আর এ
ক্ষেত্রে ওয়েব সেক্টর এখন অনেক ভাল ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। আমরা এখন খুব
সহজেই অনলাইনের মাধ্যমে আয়ের একটি উৎস খুঁজে বেড়াই। অনেক সময় অনেক রকমের
প্রতারণার সম্মুখীনও হতে হয়। আবার যে সকল কাজগুলো সত্যিই কার্যকর সেগুলোও
অনেক সময় একটু সাহসের অভাবে করে ওঠা হয় না। তাই আজকের এই লেখাতে পুরো
ব্যাপারটিকেই একটি আকার দেয়ার চেষ্টা করব।
আমাদের
চারপাশে অনলাইনে টাকা আয়ের এত উপায়ের মধ্যে আপনারা যেন হারিয়ে না যান- সে
জন্য এই লেখা। অনেক সময়ই 'ফ্রীল্যান্সিং শিখুন- স্বনির্ভর হোন!' টাইপের
বিজ্ঞাপণ আমাদের চোখে পড়ে। আসলে অর্থ-কড়ি, টাকা-পয়সার প্রতি আমাদের টান এর
কারনেই আমরা এ সকল অফার লুফে নিতে চেষ্টা করি। কিন্তু সকল চেষ্টার আগে
আমাদের যা কিছু মাথায় রাখতে হবে, তা হল-
কাজের দক্ষতা

ফ্রীল্যান্সিং
হচ্ছে এক কথায় ছুটা কাজ। উন্নতবিশ্বের বাসিন্দারা তাদের যে কোন কাজ এ
সাহায্যের প্রয়োজন হলে খচরা ভাবে তা বাইরে থেকে করিয়ে নেন। এটিকে বলা হয়
আউট সোর্সিং। আর আউটসোর্স সাপোর্ট ওয়ার্কাররাই ফ্রীল্যান্সার। স্থায়ী ভাবে
নিয়োগ না পেয়েই ফ্রীল্যান্সিং করা যায়। আর বায়াররা মূলত যে সকল কাজ
আউটসোর্সিং করিয়ে নেন তার ৮০% এরও বেশি কাজ ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কিংবা তা
সম্পর্কিত। তাই ফ্রীল্যান্সিং করতে হলে আমি বলব ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর ওপর
ভাল দখল থাকতে হবে। আজকাল ফ্রীল্যান্সিংয়ের অনেক ফ্রী পরামর্শ পাওয়া যায়।
আর বিশদ জানতে চাইলে ফ্রীল্যান্সিং শেখার কোর্স করতে হয়। যেখানে শুধু
মার্কেটপ্লেস এবং কম্পিটিশন সম্পর্কে অনেক ধারনা দেয়া হলেও 'দক্ষতা'
বিষয়টিকে বরাবরই এড়িয়ে যাওয়া হয়। কোথাওতো শুধু মাত্র ব্ল্যাক লিংক
বিল্ডিংকেই ফ্রীল্যান্সিং/এসইও ওয়ার্ক বলে আক্ষা দেয়া হয়। মনে রাখবেন,
ফ্রীল্যান্সিং করতে হলে আপনাকে ওয়েব ডিজাইন, গ্রাফিক্স, সার্চ ইঞ্জিন
অপটিমাইজেশন কিংবা অনলাইন মার্কেটিং এর কাজের উপর ভাল দক্ষতা থাকতেই হবে।
আপনি চাইলে এখনই শুরু করতে পারবেন, হয়ত কাজও পাবেন; কিন্তু এসবের উপর
দক্ষতা আসার পরেই তা ক্লায়েন্টকে করে দিতে পারবেন। সুতরাং ঝোপ বুঝে কোপ
মারার চিন্তা না করে আগে নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলুন।
মার্কেটপ্লেস ও মার্কেট আইডিয়া

সবার
আগে আপনাকে মার্কেটপ্লেস এ রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। জনপ্রিয়
মার্কেটপ্লেসগুলোর মধ্যে Odesk, Elance, Freelancerঅন্যতম। বর্তমানে অবশ্য
ওডেস্ক ও ইল্যান্স যৌথ ভাবে কাজ করা শুরু করেছে। মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে
ভালভাবে ধারণা না থাকাটা অনেক সময়েই বুমেরাং হয়ে দাঁড়ায়। কাজের বাজার-বাজার
দর উভয় ধারণাই এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মার্কেটপ্লেস এ
রেজিস্ট্রেশনের পরে প্রথম কাজ হল সুন্দর একটি প্রোফাইল দাড় করা। এক্ষেত্রে
একটু সুন্দর করে সময় দিয়ে ধাপে ধাপে ওয়ার্কার প্রোফাইল তৈরী করা হল
বুদ্ধিমানের কাজ। আরেকটি বড় কাজ হচ্ছে আপনার পূর্ববর্তী কাজের একটি
পোর্টফোলিও তৈরী করা। এটিই আপনাকে আপনার প্রথম কাজটি পাইয়ে দিতে অনেকখানি
সাহায্য করবে। কেননা প্রথম কাজটি পাওয়াই সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং। একটি প্রোফাইল
সম্পূর্ণ করতে মার্কেটপ্লেস ভেদে বিভিন্ন চাহিদা পূরণ করতে হয়।
একবার
আপনার প্রোফাইল সম্পূর্ণ হয়ে গেলে পরে আপনার কাজ হল বিড করা। কিছু
মার্কেটপ্লেসে বিডের লিমিট থাকে। তাই অবান্তর এবং শুধু শুধু বিড করা থেকে
নিজেকে বিরত রাখুন। বিড এ PM বা পার্সোনাল ম্যাসেজ করুন। সেখানে একটু
আকর্ষণীয় কিছু লেখার চেষ্টা করুন। মুখস্থ বা কমন কিছু লিখবেন না যাতে
বায়ারের কাছে আপনার বিডটি র্যান্ডম এবং অর্ডিনারি মনে হয়।
বায়ার আউটসোর্সিং এর এড টিউন করার পর প্রথম ৫-৭টি বিডই তাদের মনযোগ আকর্ষণ
করে। তাই বিডার হিসেবে দ্রুত হবার চেষ্টা করুন। সেই সাথে যুতসই ও প্রযেক্ট
রিলেটেড ম্যাসেজ লিখুন। এভাবে চলতে থাকলে এক সময় কাজ পেয়ে যাবেন। এতে অবশ্য
২দিনও লাগতে পারে... আবার ২ মাসও। তাই লেগে থাকুন, ধৈর্য রাখুন।
ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য কি এটা আমার সঠিক সময়?

সব
কিছুর একটা বয়স/সময় আছে,সঠিক সময়ে সঠিক পথে না গেলে পরে সফল হবার
সম্ভাববনা কমেই যায়। নিজের দিকে তাকিয়ে দেখুন,বর্তমান পেশা ছেড়ে
ফ্রিল্যান্সিং এ আসলে আপনি মানিয়ে নিতে পারবেন কিনা। যদি আপনি শিক্ষার্থী
কিংবা সদ্য পাশ করা যুবক হয়ে থাকেন তবে এক কথায় বলবো এই পথে আপনার সূচনা
হওয়া চাই।
প্রতিটা মানুষের চাকরি/কাজ করার জন্য একটা উপযুক্ত সময়
লাগে,আপনি যদি একজন ইন্টারমেডিয়েট পরীক্ষার্থীকে এনে এই পেশায় ডুকিয়ে
দিন তবে তার বড় হওয়া তো দূরের কথা স্বপ্ন দেখাই পাপ হয়ে দাড়াবে। তাই
যখন তখন ফ্রিল্যান্সিংয়ে আসা যাবে না।আগে একটা উপযুক্ত সময় বেছে নিন।
আপনি যখন নিজেকে মানষিক ভাবে যখন কাজ করার জন্য প্রস্তুত মনে করবেন,তখনি
আসুন।
আমি ফ্লিল্যান্সিং পেশায় পেশাজীবি হতে চাই, কিন্তু কিভাবে?

১.
সব সময় নিজেকে প্রফেশনাল ভাবতে শিখুন: আপনি মনে করবেন যে আপনি বেকার
নন, শুধু অফিসে বসে কাজ করলেই তাকে পেশা/চাকুরি বলে না। আপনি সব সময় ভাবুন
যে আপনি পেশাজীবি এবং আপনার একটি সম্মানজনক পেশা আছে।
২. সব সোর্স
থেকে উপদেশ গ্রহন করবেন না: আমরা প্রতিদিন যে কথাবার্তা শুনি বা বিভিন্ন
পত্র পত্রিকায় কিংবা জনসভায় যা শুনি তার সবগুলো আপনি উপদেশ হিসেবে গ্রহন
করবেন না।
ভালো এবং খারাফের পার্থক্য নিশ্চিত করার পর ভালো টা গ্রহন
করুন। অনেকে পত্র পত্রিকায় নিজেদের স্বার্থে অনেক কিছুই বলে/লিখে,তবে তার
সব কটি পজেটিভ নয়।
৩. পরিবার এবং বন্ধুদের থেকে সাহায্য নিন৪. একটি সময় ঠিক করুন,কতদিন এই পেশায় থাকবেন: মিনিমাম ৩ অথবা ৫ বছর প্রাথমিক ভাবে নিদ্দিষ্ট করুন যে আপনি আগামী ৫ বছর ফ্রিল্যান্সিং করবেন।
৫. সব অফার গ্রহন করবেন না: আপনি যখন ভালো পজিশনে থাকবেন তখন অনেক অফার পাবেন,তাই বলে সবগুলো গ্রহন করবেন না,কিছু অফার ছেড়ে দিন এবং বেছে যেকোন একটি ভালো সুযোগ গ্রহন করুন। কেননা ছোট এবং কম লাভজনক কাজে নিজেকে জড়িয়ে ফেললে পরে ভালো অফার পেলেও আপনি তা গ্রহন করতে পারবেন না বা সেই সুযোগ থাকবে না।
৬. যে কাজটি পারেন তাই করুন: ফ্রিল্যান্সিং এ অনেক কাজ রয়েছে,আপনি যেটা ভালো পারেন সব সময় সেটাই করুন,বার বার কাজ পাল্টাবেন না, এতে আপনি ততটা দক্ষতা অর্জন করতে কোনদিন পারবেন না।যে কোন একটা কাজেরই অভিঙ্গতা অর্জন করুন।
দক্ষতার সাথে ফ্রিল্যান্সিং/ আউটসোর্সিং শেখার জন্য আপনাকে স্বাগতম।
কোর্স ফি : ১০,০০০/-